আজকের নোটে আমি লিখবো যারা হ্যাকিং শিখতে চান, তারা কারো থেকে কি ধরনের গাইড পেয়ে থাকেন এবং সেটা আদৌ কার্যকর কিনা।(সাথে আমার লাইফের কিছু ঘটনা, কিভাবে শুরু ইত্যাদি!)
আপনি হ্যাকার হতে চাচ্ছেন, তাই গাইড হিসেবে আপনি হ্যাকারদেরই খুজবেন স্বাভাবিক। ফেসবুকে যাদের দেখেন, তারা প্রোফেশনাল হতেও পারে, আবার নাও পারে! আপনি কয়েকজনকে মেসেজ করলেন। তারা আপনাকে পাত্তাও দিল না। অনেকে আপনাকে বললো গুগল এবং ইউটিউবে খুঁজেন। এর থেকে ভাল বন্ধু এবং শিক্ষক আর কেউ হতে পারে না। কিন্তু তারা এটা বলে না যে আসলে কি খুজতে হবে! জিনিসটা গাড়ির চাকা অর্ধেক লাগিয়ে চালানোর কথা বলে ফেলার মতো। আপনি কাউকে গাইড করছেন ভালো, তবে সঠিক এবং সম্পূর্ণ গাইড করুন। আর না পারলে বাদ দিন! অন্যের মতো ভাব নিয়ে বসে থাকুন
ভাব নিয়ে যারা বসে থাকে, একটা জিনিস দেখলাম, অন্যরা তাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে! আদৌ সে কি করে বা পারে, সেটা কারো জানার আগ্রহ নেই! খারাপ লাগে তখন, যখন নিজে তো হ্যাকার হতে পারেই না, অন্য কেউ হ্যাকার কিনা না জেনে হকার হকার বলে অপমান করে! আমি মনে করি, এদের হ্যাকিং শিখতে সাহায্য করাটাই উচিত না। কারন তারা হ্যাকার বলতে কুন্ঠিতবোধ করে বলেই অন্যকে হকার বলে থাকে! ছিঃ
আবার কিছু করে ফেলতে পারলেই এক ধাক্কায় লিজেন্ড বানিয়ে বসে থাকে লোকজন! আবারো ছিঃ
আসলেই আপনারা সাহায্য পাবার যোগ্যতা রাখেন না
অন্যকে সম্মান এবং ভালবাসা দিতে শিখুন! না হলে আপনি অবহেলিত হবেনই। সবার ব্রেইন সমান না। আপনি একটা জিনিস পারেন, আরেকজন অন্য জিনিস পারে যা আপনি জানেনও না। তাই সবাইকে সম্মান দিতে শিখুন
না হলে আপনি কারো সাহায্য পাচ্ছেন না, হিসাব বরাবরই আছে।
হ্যাকিং আসলেও সবার ধরা ছোয়ার জিনিস না। সবাই সব পারে না। আপনি যদি কারো গাইড শুনে গুগলে আর ইউটিউবে গিয়ে হ্যাকিং টিউটোরিয়াল শিখতে থাকেন, তবে ভাসাভাসা বুঝা ছাড়া আপনার কিছুই করার থাকবে না। কেননা, আপনি জানেনই না কি করা হচ্ছে! অন্যের থেকে হয়তো কিছু জিনিস সম্পর্কে জেনেছেন, তাই কিছু জিনিস আপনার পরিচিত। এতে করে কিন্তু আপনার আগ্রহ কমে যাবে!
আমি যদি নিজেকে সবকিছুতে অজ্ঞ হিসেবে চিন্তা করি, তবে আমাকে কেউ যদি বলে যে গুগল থেকে শিখতে, আমি গিয়ে গুগল করলাম “How to become a hacker”. সেখানে যেসব আর্টিকেল আসবে, তা আমার বোধগম্য হবার কথা নয়! তারা হয়তো ৮-১০ টা জিনিস শিখতে বলবে। সেগুলো শিখিও যদি, তবেই কি সব বুঝে যাবো? ইউটিউবে সার্চ দিলে হ্যাকিং টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। তবে হ্যাকিং এর কমন জ্ঞান না থাকলে টিউটোরিয়াল কি আদৌ বুঝা যাবে? যাবে না। সুতরাং, আমাকে অনেক কিছু শিখা লাগবে অন্তত টিউটোরিয়ালে যা থাকে, তা বুঝার জন্য! তারপর টিউটোরিয়াল ফলো করার চিন্তা করা যেতে পারে! আমি যেখানে জানিই না যে টিউটোরিয়ালে কি করা হচ্ছে, আমি কেন আগে টিউটোরিয়াল ফলো করবো? এক এক জন হ্যাকার আসলে শুধু হ্যাকারই না, তারা আইটি গিকও। কাজেই, ফেসবুকই চালান কয়েক বছর ধরে, কিন্তু ইন্টারনেটের বিস্তর জ্ঞান নেই, তাদের জন্য হ্যাকিং নয়! হ্যাকিং জিনিসটা সেসব মানুষের জন্য যারা রাত দিন শুধু ইন্টারনেটে নতুন কিছু খুঁজে বেড়ায়, নিমেষেই যেকোন কম্পিউটার, মোবাইলের সমস্যার সমাধান বের করে নিতে পারে, নতুনত্ব খুঁজে বেড়ায়।
হ্যাকিং তাদের জন্য নয় যারা ইন্টারনেট বলতে শুধু ফেসবুককেই চিনে! তারা ফেসবুকের পোকা। তারা হ্যাকার হবে কি করে! নাহ, আমার আসলে ভালো লাগছে না। হ্যাকিং জিনিসটা সস্তা হয়ে যাচ্ছে দিন দিন! অনেকে হাজার সাধনা করে হ্যাকিং এ সফলতা পায়, আর কেউ অন্যকে মেসেজ দিয়ে “ট্রিক” জেনে ২ দিনে হ্যাকার হয়ে যেতে চায় যেখানে তার ইন্টারনেট চালানোর অভিজ্ঞতাও ২ মাস হয় নি!
আসলে আমি জানি না একটা গাইডের শুরু কিভাবে হতে পারে! কারন, আমার জীবনের Flash back এ যখন তাকাই, আর যারা হ্যাকিং এ আগ্রহ দেখায় তাদের Flash back অনুমান করি, আমার আসলে বলার কোন ভাষা থাকে না আসলে তাকে কোন জিনিসটা দিয়ে শুরু করতে বলবো!
আচ্ছা, আমার জীবনের Flash back এর কিছু জিনিস তুলে দেই, তখন আপনার সাথে compare করে নিয়েন, তাহলে মনে হয় আপনার ঘাটতি আছে কিনা সেটা বুঝতে পারবেন। তো শুরু করি।
আমার ছোটবেলা থেকেই টেকনোলোজিকে অনেক ঝোক। সাল ২০১০ এ আমার ফেসবুক আইডি খুলে দিতে বলি চাচাতো ভাই কে। তখন পড়তাম ক্লাস নাইনে। তিনি খুলে দিলেন। বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছিল আইডি। হ্যাকিং(নামই শুনি নি) বা ইন্টারনেট ভালো বুঝতাম না তখন। ফেসবুকে মাঝে মাঝে ঢুকতাম কারো মোবাইল পেলে। নিজের ছিল না। ২০১২ তে কলেজে উঠলাম। আমাদের সাথের এক বন্ধু ছিল যার অনেক কিছুতে জ্ঞান ছিল। সে সময়ই স্কুলে থাকা অবস্থায় সে .net ডোমেইন কিনে একটা সাইট রান করে ফেলেছিল! লিনাক্স নিয়ে তার অঢেল জ্ঞান! এ ছাড়া আরো অনেক কিছু হয়তো জানে, আমি ঠিক বলতে পারছি না। কলেজে উঠার পর তাকে একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে হ্যাক করার জন্য কোন software আছে কিনা। সে তখন বলেছিল ব্যাকট্র্যাক এর কথা। হয়তো সে ব্যবহার করেছিল বলেও মনে হয়। ২০১২ এর ২২ সেপ্টেম্বরে মনে হয়েছিল, একটা সাইট খুলে দেখি কেমন লাগে
সে সময়কার পপুলার ওয়াপকা তো সবার চিনার কথাই(ডট টিকে ডোমেইন লাগিয়ে নিয়েছিলাম, গরীব মানুষ)! চাচার মোবাইল দিয়ে খুলে ফেলেছিলাম। অনেক excited ছিলাম। আমার কলেজের অনেক বন্ধুবান্ধবকে সেটা ব্যবহার করতে বলেছিলাম, তারা ব্যবহার করতো। প্রায় ১ বছর এগুলো নিয়ে থেকেছি। সেই সাথে ফেসবুকে আমার আরেক ফুফাতো ভাই এর আইডি ওপেন করা ছিল ২০০৮ এর। সেটা তিনি ব্যবহার করতেন না। তাই আমিই করতাম
মানে, আমার নিজের আইডি খোলার আগেও উনার আইডি দিয়ে ধুমসে মানুষ এড করতাম। দেখা গেল, উনার আইডিই আমার কাছে ভাল লাগা শুরু হল। সাইট চালু করার পর আরো অনেককে পেয়েছিলাম যারা আমার মতো সাইট বানাতো। তাদের সাথে ভাল যোগাযোগ তৈরি হয়। সেসব সাইটও আবার হ্যাক হতো! হ্যাকিং এর সাথে পরিচয় হওয়া শুরু হয় তখনি। আর ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়, সেটাও জানা হয়ে গিয়েছিল আগেই। তবে কিভাবে, তা জানতাম না! গুগলে খুজেছিলাম। অনেক সিস্টেম দেখেছিলাম। আমার কাছে মনে হতো হয়তো software ব্যবহার করে। পরে জানতে পারলাম, সেগুলাও একটা ট্র্যাপ ছিল(ফাঁদ) ফেসবুক আইডি হ্যাক করার। হ্যাকিং এ আগ্রহ আসতে শুরু হয়। অনেকে ফেসবুকের ওয়াপকা ফিশিং সাইট বানাতো। সেগুলোর পুরাতন ভার্সনে একটা বাগ ছিল। সেটা হল লগিন ফর্মের সাথে কিছু কাজ করে সেইভ করা ডাটাবেজ লিঙ্কে চলে যাওয়া যেতো(যারা আগে কাজ করেছেন, জানা থাকার কথা)। সেই আইডি পাস নিয়ে কি করেছি, তা বুঝতেই পারছেন মনে হয়
এই আইডিও কিন্তু আমার না! সেই সময় কাহিনী করা অনেক অনেক আইডিগুলোর একটা এটা! তবে আমি নিজে ফিশিং সাইট বানিয়ে কাউকে ফাদে ফেলি নি কখনো কারন অন্যের ডাটাবেসে যা ছিল, তাতে অনেক আইডি ছিল! আমার নিজ থেকে কিছু করতে হতো না! অনেক ফ্রেন্ডকে জিনিসটা দেখিয়েছিলামও। পরে আপডেট হবার পর কাজ বন্ধ হয়ে গেল। সাল, ২০১৩। ওয়েবসাইট হ্যাকিং শিখতে আগ্রহ আসলো। কিভাবে ওয়াপকা সাইট হ্যাক হতো, জেনে গেছিলাম তখন। চিন্তা করলাম, এগুলা সাইট হল? ছিঃ! সে সময় কিছু গ্রুপের ডক পড়তাম, যেমন “হ্যাকার ইউনিভার্সিটি”। আমার বন্ধু Mohammad Zadran আমাকে বললো একদিন যে তার লিস্টে নাকি কিছু হ্যাকার এড আছে! সে আমাকে তাদের আইডি লিংক দিয়েছিল। এদের মধ্যে রোটেটিং রোটর ভাই ছিল ফেমাস মানুষ
চিনেনই তো! এ কথা স্বীকার করতেই হচ্ছে যে আমি এক সময় উনার স্ট্যাটাস দেখার জন্য উনার টাইমলাইন চেক করতাম প্রতিদিন। এর পর একদিন উনার টিমের নামে অনেক ল্যামিং দেখা গেল এবং আমি নিজেও কিছু প্রমান পেয়েছিলাম।(সেদিকে যাচ্ছি না, তাইলে আবার মাইর লেগে যাবে যা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, সে সময়ও সাইবার স্পেসে যারা ছিলেন, তারাই ভাল জানেন।) এবং এর পর থেকে উনার আইডিতে আর চেক করতে যাই নি
আজ আমরা তাদের পেছনে ফেলে উপরে উঠে গেছি, সেটা আমার বিশ্বাস করতেও অনেক সময় অবাক লাগে! কখনো ভাবি নি যে এতো উপরে আসা সম্ভব হবে(ধন্যবাদ সব ভাই ব্রাদারসদের
সাথে থাকার জন্য)! যা হোক, ২০১৩ এর নভেম্বরে সাহাদাত ভাই(উনি বাংলাদেশ স্ক্রিপ্ট কিডি হ্যাকারস এ ছিলেন আমার সর্বশেষ জানামতে) এর প্রোফাইলে সাইবার কমান্ডোস এর পেজ দেখতে পেয়েছিলাম। সেখানে যেতেই ক্রু নেওয়া হচ্ছে বলে পোষ্ট পেলাম এবং আপিল করলাম(আমার দেখাদেখি সায়মন ভাইও, আমি সাথে করে Mohammad Zadran কেও নিয়ে নিয়েছিলাম)। পরিচয় হল হাসান ভাই এবং ডার্ক রুট ভাইয়ের সাথে
তারা না থাকলে আসলে আমি আজ এতোদূর নাও আসতে পারতাম। তারা আমাকে ট্রেনিং জোনে নিল এবং পুরো ১ বছর শুধু বেসিকের উপর টিউটোরিয়াল দিতো(বুঝতাম না কিছুই)। অনেকে টেকনিক না পেয়ে লিভ করেছিলেন। তারা আজ ছন্নছাড়া! আবার অনেকে অন্য টিমে! ২০১৪ তে একদিন মনে করলাম, আমি যে বুঝছি না, এর কারন কি? অনুভব করলাম যদি what is *** লিখে গুগল করি, তবেই তো আমি wikipedia তে তথ্য পাবো! শুরু করলাম খোঁজা। আর সাথে সাথে ফেসবুকের নোট ফিচার ভাল লেগে গেল! শুরু করলাম নোট এড করা। ডিফেস করে শেয়ার করার জন্য, নাকি কি এক কারনে আমার আইডিখানা ২০১৫ তে পকাত করে ডিজেবল করে দিল ফেসবুক
৫০০০ ফ্রেন্ড বানিয়ে ফেলেছিলাম ততদিনে(এই কাহিনী আবার মিস করে ফেলেছি। আচ্ছা, দরকারী না।) আরেকটা আইডি ছিল যা দিয়ে ডিফেস করে ফেসবুকে পোষ্ট করতাম(আমিও চিরায়ত ধারা ফলো করতাম! না করবো না
ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়ার জন্যি হয়তো হ্যাকিং এ আগ্রহ এসেছিল!), সেটাও ফেসবুক ডিজেবল করে দিল। ২০১৫ তে আবার আইডি ওপেন করি একটা(এই আইডিটা)। সেটা আবার ২০১৭ তে এসে প্রিটেন্ডিং মেরে খেলে দিল কিছু মানুষ
আবার খুললাম, আবার খেয়ে দিল! এখন ২০১৭ এর ১৪ ই জুলাই(যখন লিখেছিলাম)। আপনারা পড়ছেন আমার নোট!
এবার আপনি কি কি করেছেন, সেটা মিলিয়ে দেখতে পারেন
অনেক কথা বলা হয় নি, কারন পুরো লাইফের Flash back আমার লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
ধন্যবাদ 
No comments:
Post a Comment