Facebook massage

Friday, August 4, 2017

প্রোগ্রামিং এবং হ্যাকিং এর যোগসুত্র নিয়ে খুটিনাটি


CHOYON AHMED·
সবাইকে সালাম জানিয়ে শুরু করছি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নোট। পুরোটা পড়া জরুরী যদি মনে করেন!
আজকের আলোচনার বিষয় তো দেখতেই পাচ্ছেন, বেশি কথা না বলে তাই সরাসরি মুল বিষয়ে চলে যাবো।
আমি চয়ন, আপনারা পড়ছেন আমার নোট!
তো, শুনেই থাকবেন যে হ্যাকিং এর প্রধান এবং অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে প্রোগ্রামিং এর জ্ঞান। ঠিক প্রোগ্রামার হয়ে গেলেই যে কেউ হ্যাকার হয়ে যাবে, এমন না ব্যাপারটা তবে প্রোগ্রামিং কিভাবে কাজে আসে হ্যাকিং এ, সেটাই আমরা দেখবো এবং এর পেছনের লজিকগুলো আমি দেখাতে চেষ্টা করবো।
যাই হোক, হ্যাকিং মানেই ওয়েবসাইট হ্যাকিং বা ফেসবুক আইডি হ্যাকিং না। হ্যাকিং একটি বিস্তর জিনিস এবং আমি মাত্র একটি জিনিসই দেখানোর চেষ্টা করবো। তবে, সব কিছুর পেছনেই কিন্তু একটি কম্পিউটার এক্সেস নেওয়াটাকেই টার্গেট করা হয়ে থাকে। এর মানে, সব ধরনের হ্যাকিং এর যোগসূত্র কিন্তু একই স্থানে! সেটা হল কম্পিউটার। তো, যাই করেন না কেন, আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার চালানো এবং এর খুটিনাটিতে সুদক্ষ হতে হবে। এছাড়া আপনাকে দিয়ে বেশি কিছু হবে না। আপনার এন্ড্রোয়েড আছে, আপনি এর বিশেষজ্ঞ হলেও হ্যাকিং এর খাতিরে আপনার কম্পিউটারের উপর বিশদ জ্ঞান থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। তাই, সম্ভব হলে আগে এর উপর দক্ষতা অর্জন করুন। হ্যাকিং যে খুবই সহজ এবং কোন কোর্স করে হ্যাকার হয়ে যাওয়া যায়, এমন নয়! আপনাকে ধৈর্যের সাথে অনেক অনেক কিছু শিখার প্রয়োজন হবে। আর সবাইকে দিয়ে হ্যাকিং শিখা সম্ভব নয়। আপনি অনেক কিছুতে দক্ষ হতে পারেন, হ্যাকিং এর থেকে আলাদা। কারন, এতে শিখার কোন শেষ নেই। আপনাকে শিখে যেতেই হবে। ওয়েবসাইট ডিফেস করতে পারেন মানেই যে সব জেনে বসে আছেন, এমনও কিন্তু না। একটা কম্পিউটার এর সাথে অনেক কিছু জড়িত থাকে। আপনাকে এর সবই জেনে নিতে হবে। তাই, মাথায় কাপড় বেধে লেগে পড়তে পারেন যদি হ্যাকিং শিখার কোন অঢেল আগ্রহ আপনার মধ্যে থাকে। যদি লাভের কথা চিন্তা করেন, তবে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এ কিছু দিক দিয়ে লাভ আছে তবে আপনার মুল্যবান সময়টাও নষ্ট হবে। হোয়াইট হ্যাট হ্যাকিং এ ভালো লাভ আছে, কেননা এতে আপনি টাকাও বোনাস পাবেন! টাকার কথা শুনে আপনার আগ্রহ আরো বেড়ে যাবার কথা, তবে আমি হোয়াইট হ্যাট কিছুতে বিজ্ঞ নই। তাই, আমার কাছে আসলেও আপনার লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না। তো, ব্ল্যাক হ্যাট মানেই ক্ষতি করার চিন্তাভাবনা। আপনাকে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কি হতে চান। আমি দুঃখিত, আপনি ব্ল্যাক হ্যাট উপায়ে কিভাবে টাকা উপার্জন করতে পারবেন, সে বিষয়ে আমি কিছুই শেয়ার করবো না। কারন, টাকা উপার্জনের পথ দেখাতে আমি নোট লিখছি না।
যাই হোক, আবারো মূল বিষয়ে ফিরে আসি। আমাদের আলোচনার মূল ব্যাপারটি ছিল প্রোগ্রামিং কেন দরকারি।
আমরা যদি একটি সার্ভারের Back-End Configuration চিন্তা করি, তবে দেখা যায় যে একটা কম্পিউটারে (যাকে সার্ভার বলা হয়) কিছু প্রোগ্রাম সেট করা থাকে যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার ব্রাউজারের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। এখন, তথ্য তো ওয়েবসাইটে থাকে। অনেক সময় নতুন মানুষের রেজিস্টার করার দরকার হয়। এই কাজটা করতে যদি সাইটের মালিক সারাদিন বসে থাকে, তাহলে তো হবে না! দেখা গেল, আপনি একাউন্ট খুলতে চান, এখন এডমিনকে ফোন করে জানালেন, তিনি আপনার ডাটা উনার সার্ভারে এন্ট্রি করলেন এবং আপনি সাইটটি ব্যবহার করতে পারলেন। জটিল না ব্যাপারটা? তাই, ওয়েবসাইট হয় ২ প্রকার। স্ট্যাটিক(নিজে তথ্য বদলে নিতে হয়) এবং ডায়নামিক(তথ্য প্রোগ্রামিং এর সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যায়)।
তো, ডায়নামিক যেসব ওয়েবসাইট আছে, সেগুলোই হ্যাক করার চেষ্টা করা যায়। কারন সাধারন HTML দিয়ে করা একটা পেজে তো আপনি কিছু করতেই পারবেন না! ভালো কথা, আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোন জ্ঞান না নিয়ে থাকেন, ওয়েবসাইট হ্যাকিং শিখার জন্য আপনার অগ্রসর হওয়াটা ঠিক হবে না একদমই।
আর অনেকে বলে গুগলে নাকি কিছু পাওয়া যায় না! কি বলেন ভাই? এই যে আমি এতো কিছু লিখছি, আমাকে কোথাও না কোথাও তো তা জেনে নিতে হয়েছে, তাই না? কোথায় জেনেছি? সেই গুগলে। কারন, গুগলই একমাত্র জায়গা যা ছাড়া সবাই ইন্টারনেটে বেশি রিসোর্স পাবে না! আর তাই, গুগল থেকে আপনার জন্য ভালো শিক্ষক কেউ হতে পারে না। অনেকের অজুহাত থাকে যে সে ইংরেজি কম বুঝে। আমাকে অত্যন্ত দুঃখ নিয়ে বলতে হচ্ছে, হ্যাকিং জগতে আপনিই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত! কারন, ইন্টারনেটের ৯৫% তথ্যই আপনাকে গুগলে খুজতে হয় এবং এগুলো ইংরেজিতে।
আর হ্যা, অনেকে কিন্তু নিজেকে হ্যাকার হিসেবে জাহির করতে হ্যাকারদের বিভিন্ন প্রকারভেদ করে শেয়ার করে। এতো প্রকারভেদ শিখে লাভ নেই। এর থেকে প্রয়োজনীয় যা লাগে, তা শিখুন। মনে রাখবেন, এমন কিছু নেই যা আপনাকে ২-৩ মাসে হ্যাকার বানাই দিতে পারবে! এখানের লিখা সবকিছুই আমার নিজের মতামত। কারো সাথে বিপরীত হয়ে গেলে আমার সেটা দেখার বিষয় নয়। আমি যাই বলবো, এর পেছনের লজিকও দেখিয়ে দিবো। তাই, প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন! আমি উত্তর দিতে রাজী আছি।
আমি সবাইকে বেসিক শিখতে আগ্রহী করি। অনেকের কাছে বেসিক মানে প্রোগ্রামিং এর জ্ঞান আর আমার কাছে বেসিক মানে হ্যাকিং এ ব্যবহৃত বিভিন্ন টার্ম। প্রোগ্রামিং একটা এক্সট্রা সাহায্যকারী জিনিস মনে করে নিতে পারেন আবার আপনি যা ম্যানিপুলেট বা এক্সপ্লোয়েট (ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা) করবেন তার মুলটাই প্রোগ্রামিং দিয়ে করা, সেই দিক দিয়ে Compulsory বলে ধরে নিতে পারেন। আপনি যাই করুন না কেন, টুকটাক প্রোগ্রামিং আপনার জানতেই হবে।
আর হ্যা, সবাই প্রোগ্রামিং বুঝে না আর দক্ষ হতে পারে না কিন্তু! আমি কিভাবে প্রোগ্রামিং শিখবো বলে আমাকে মেসেজ না করে গুগলে সেইম কথাটাই ইংরেজিতে লিখুন, উত্তর চলে আসবে। ব্রেনের ধারণক্ষমতার একটা ব্যাপার চলে আসে। যদি দেখেন আপনার ব্রেনে ধরছে না, না এগুনোই ভালো!
আসি, কেন জানা লাগবে। ডায়নামিক ওয়েবসাইটগুলো চালাতে দরকার হয় একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর। যেমন php, asp ইত্যাদি। আরো ওয়েব স্ক্রিপ্টিং language আছে, সেগুলোতে না গিয়ে যদি আমি শুধু php এর কথাই উদাহরন দেই, তবে দেখুনঃ
একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে দরকার হবে php এর। কারন আপনি সাইট ডায়নামিক বা প্রয়োজনমতো পরিবর্তনশীল করতে চান, তবে php তো লাগছেই। এখন, আপনাকে জানা লাগবে php ল্যাঙ্গুয়েজ এর ঠিক কোন কোন জিনিস ব্যবহার করা হলে আপনি একটি সাইটের দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে পারবেন। হতে পারে, একটি সাইটের যেকোন একটি ফাইল যা আপনাকে নিউজের লিংক জোগাড় করে দেয় ডাটাবেজ থেকে। এখন, সেই ফাইল যদি হয় news.php এবং এতে news.php?id=1 দিলে প্রথম নিউজটি ডাটাবেজ থেকে সংগৃহীত হয় আবার আপনি কি করলেন, 1 কেটে দিয়ে সেখানে চেক করলেন যে php কোড দিলে সেটা run করে কিনা সার্ভার অথবা আপনি mysql query রান করে দেখলেন। (mysql হল ডাটাবেজ ল্যাঙ্গুয়েজ যা দিয়ে ডাটাবেজে তথ্য রাখা, মুছে দেওয়া এবং পরিবর্তন করা যায়) এখন, সাইটের সেই news.php ফাইলে এমন খারাপ কোড করা হয় যদি, যা কিনা সে সব query সার্ভারে রান করিয়ে ফেলে, তবেই সেটা সাইটের এক্সেস নিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট!
কাজেই, আপনাকে অন্তত টেস্ট করার জন্যও কিন্তু প্রোগ্রামিং জানতে হচ্ছে! এবার বুঝা গেল প্রোগ্রামিং কোথায় কাজে আসে? অনেক কিছু লিখার ছিল, তবে আসলে নোট লিখে এতো কিছু বুঝানো যাবে না।
কিছু খটকা দূর করি। প্রোগ্রামিং কেউ পারলেই হ্যাকার হয়ে যায় না। আবার ওয়েব ডেভেলপার হয়ে গেলেও কেউ হ্যাকার হয় না। কোন কোর্স করে কেউ হ্যাকার হতে পারে না। আবার ২-৩ মাসেও হ্যাকার হয়ে যাওয়া সম্ভব না। হ্যাকিং শিখান বলে আমাকে মেসেজ করা থেকে বিরত থাকুন কারন আমি কোথাও নিজেকে হ্যাকার বলে claim করছি না এবং আগ্রহও বোধ করছি না। তবে, এটুকু বিশ্বাস রাখুন, আমার এক্সপেরিয়েন্স লেভেল প্রোফেশনাল। মনগড়া কথা আমি লিখি না লজিকবিহীন কথা আমি বলি না। এতো কিছু জেনেও আমি ভাব দেখাই না। (Looks like a rap song, right? Just kidding)
আপনার অবান্তর প্রশ্নে আপনাকে সাহায্য করতেও আমি বাধ্য নই। তাই, এমন কোন প্রশ্ন করবেন যাতে সেটা উত্তর দেওয়ার যোগ্য হয় এবং গুগলে আপনি পাচ্ছেন না। বেসিক কই পাবেন নিয়ে যারা টেনশন করছেন, তারা চাইলে আমার “Hacktivism Reloaded” pdf বই পড়ে নিতে পারেন। সেখানে ওনেক রেফারেন্স দেওয়া আছে, কাজে দিবে। গুগলে বইয়ের নাম লিখলেই চলে আসবে। তাই লিংক পেতে আশা করি সমস্যা হবে না। আর তাতেও সন্তুষ্ট না হলে, আপনাকে নিজে গুগলে যা বুঝেন না, সার্চ করে রিসোর্স সংগ্রহ করে নিতে হবে।
ভালো থাকবেন, এবং ধন্যবাদ! যারা পুরোটা পড়েন নি, লস হয় নি আপনার

No comments:

Post a Comment