Facebook massage

Friday, August 4, 2017

একজন হ্যাকার আসলে কি করার ক্ষমতা রাখে?

আজকের এই নোটে আলোচনা করব একজন হ্যাকার কতটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে আপনার বাস্তবিক জীবনে। হ্যাকারদের “হকার হকার” বলে অপমান করার আগে সাবধান! কেন বলছি? জানতে পারবেন নিচেই।
আসুন দেখা যাক ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং কি।
মানুষের অন্যতম ভয় হল অন্ধকার। রাতের অন্ধকার সবারই ভয় লাগার কথা যদি আলোর কোন উৎস না থাকে। হয়তো এর সাথেই সম্পর্কিত হতে পারে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর নামকরণ। তো, যাই হোক। হ্যাকিং কে ব্ল্যাক হ্যাট কখন বলা হবে? তখনি যখন সেটা জনজীবনের ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। কি ধরনের ক্ষতি? ক্ষতির ধরন অনেক রকমের হতে পারে। যেমন কোন হ্যাকার বাংলাদেশ সরকারের কোন সাইট হ্যাক করে সেখানে আপনার তথ্য দিয়ে কিছু একটা খারাপ লিখে দিয়ে চলে আসলো। সবার আগে বিপদে কে পড়বে? আপনি! চিন্তা করে দেখুন! কথাটা সত্য কিনা! আপনার তখন কোন কিছু করার পথ থাকবে না!
আবার হ্যাকার মনে করুন কোনভাবে আপনার ব্যাংক একাউন্টের কিছু পেয়ে গেল। সে সেটা দিয়ে আপনাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। আবার এমন হতে পারে, আপনার প্রিয় ফেসবুক একাউন্ট। হ্যাকার সেটা হ্যাক করে আপনাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে! এ সময়ে এসে আপনি ভাবতে পারেন যে আইডি রিপোর্ট করে খাই দিলে কি হয়? কিছু না! এতে সে বিব্রতকর অবস্থায় পড়লো কি? বা তার আহামরি লস হল কি? হয়তো কিছু ছবি মিস করতে পারে সে, অনেকে আবার ছবির ব্যাক আপ রেখে দেয়, তাই লসে পড়ে না। আর এটা হ্যাকিং ও তো না! তাই, ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং কি সেটা নিশ্চয়ই আচ করতে পারছেন কিছুটা। হ্যা, ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং হল সেই ধরনের হ্যাকিং যা যে কোন কিছুর ক্ষতি করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেটা হতে পারে যে কোন কিছু! ব্যাংক ব্যালেন্স , হ্যারাজমেন্ট ইত্যাদি।
তো, ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এ কি কি আছে? ২ - ১ টা উদাহরণ তো দিয়েই দিয়েছি, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হল ব্যাংক ব্যালেন্স হাইজ্যাকিং! অনেকে হয়তো কার্ডিং এর নাম শুনে থাকবেন। যারা শুনেন নি, তাদের জানার জন্য, এটি হল কারো অনলাইন ব্যাংক ব্যালেন্স হতিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি। কিভাবে করা হয়, সেটা তো জানি না তবে আপনার ইমেইল পাবার জন্য হ্যাকার আপনাকে নানাভাবে ট্র্যাপ করে থাকে। আপনি ফাদে পা দিলে সে আপনার ইমেইল জেনে যায় এবং সেখানে আপনাকে হাজারো ফেইক মেইল পাঠাতে থাকে যাকে বলা হয় ইমেইল স্পুফিং। এখন, ধরুন আপনার পেপ্যাল একাউন্ট আছে। আপনাকে পেপ্যাল থেকে ইমেইল করা হল যে আপনাকে একাউন্ট সিকুরিটি বাড়াতে একটা লিঙ্কে লগিন করতে হবে, আপনি সেটায় গেলেন। লগিন করলে আপনার তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যাবে। এছাড়া অনেক সময় ওয়েবসাইটের ডাটাবেজ থেকে এরকম তথ্য বের করে নিয়ে আসে হ্যাকারেরা। তো, হাজারো এরকম মেসেজ একসাথে পাঠানোকে স্পামিং বলা হয়। প্রায় অনেকগুলো মেইল প্রোভাইডাররাই এই স্পাম ইমেইল ধরতে পারে, তাই অনেক সময় বিপদ হতে অনেকে বেঁচে যায়।
আবার আপনাকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হল যে কোন একটি ওয়েবসাইট হতে আপনাকে ভিসা দেওয়া হবে। আপনি ভরসা রেখে তাদের টাকা দিলেন কিন্তু ফল আসলো না। আপনি টাকা লস খেলেন। এটাকে বলা হয় স্ক্যামিং। অর্থাৎ, ধোকা দেওয়ার আরেক নাম স্ক্যামিং। এসবই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর সাথে জড়িত।
তো, এসব থেকে বাচার উপায় কি? একটাই উপায়, সেটা হল সচেতন থাকা এবং নিরাপদ থাকা। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর মধ্যে ওয়েবসাইট হ্যাকিং এবং ডিফেস করাও পড়ে। কেননা আপনি একটি সাইটের তথ্য বদলে দিয়েছেন মানেই সাইটের মালিকের লসের পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনি মনে করতে পারেন যে আমি তো আলাদা পেজ লাগিয়েছি, কিন্তু যে সাইট হ্যাক করলেন, তা যদি SEO করা থাকে, তবে সেটাকে এই কাজ অনেকটা ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াবে। আবার AdSense এর ব্যাপারস্যাপারও জড়িত আছে। তাই, ডিফেস করা এবং হ্যাকিং সম্পূর্ণই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং। কেউ ডিফেস করে যদি নিজেকে হুয়াইট হ্যাট (ব্ল্যাক হ্যাট এর বিপরীত এবং একে বাগ হান্টিংও বলতে পারেন) হিসেবে দাবী করে, তবে তা যুক্তিসঙ্গত হবে না। আর কেউ বাগ হান্টার হয়ে থাকে যদি, সে কখনো সাইটে ডিফেস পেজ আপলোড করতে চাইবে না। সে শুধু সাইটের বাগ বের করতে চেষ্টা করবে এবং পেলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাবে। এর বেশি কিছু করতে চাইবে না।
আবার, আরেকটা ঘটনা চিন্তা করুন, মিডিয়ার দৌড় সারা দেশ থেকে ধরে বিশ্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। এখন, পপুলার কোন নিউজ ওয়েবসাইট হ্যাক করে কোন হ্যাকার যদি আপনার ব্যাপারে কিছু লিখে দিয়ে চলে আসে এবং সেটা সবাই পড়ে দেখে এবং ধরুন সেটা যদি প্রশাসনের সাথে জড়িত হয়ে যায়, আপনার লাইফ তো এখানেই নষ্ট হয়ে যাবে! হ্যাকারেরা এটা সহজেই করতে পারে, তাদের জন্য অসম্ভব কিছু নেই। আপনি জেনে থাকবেন যে গুগল, মাইক্রোসফটও হ্যাক হয়েছিল। সেখানে যদি আপনার ঠিকানা দিয়ে দিতো কোন হ্যাকার, তবে পরের দিনই আপনাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। কাজেই সাবধান সবাই অরডিনারি হলেও হ্যাকারেরা এক্সট্রা অরডিনারি জ্ঞানের অধিকারী। আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না যে আপনি বিপদে পড়ে গেছেন এমনকি সেটা আপনার অবগত নাও হতে পারে!
এককথায়, আইনের বিরুদ্ধে যে কোন কাজই খারাপ এবং এর সাথে হ্যাকিং যদি জড়িত হয়ে যায়, সেটাই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর মধ্যে পড়বে।
তো এই ছিল ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং কি, এবং কেন ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং আপনার ক্ষতির কারন হতে পারে।
এটা অনেকেরই প্রিয় একটা জিনিস এবং অনেকেই এই কাজের দিকে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে।
ধন্যবাদ, সাথেই থাকবেন।

No comments:

Post a Comment