হ্যাকিং টুলস!আসলেই কি কাজের? ও অন্যান্য ...
আপনারা হয়তো দোটানায় থাকতে পারেন যে হ্যাকিং এর টুলস আছে?থাকলেও কি কাজের?নাকি লোক দেখানো?আসলে, ব্যাপারটা হল, টুলস বলতে আমরা কি বুঝি?একটা সফটওয়্যার।কি কাজ করে এটি?আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে দেয়।
আলোচনা করব প্রোগ্রামিং এর ব্যবহার কিভাবে হ্যাকিং এ প্রভাব ফেলে সে ব্যাপারে।তবে হয়তো বুঝতে পারবেন প্রোগ্রামিং আপনাকে কতটা কাজে সাহায্য করার উপযোগী।(ফেসবুক হ্যাকিং এর জন্য হা করে যারা বসে আছেন, তাদের জন্য “ভাই, বিষ কিনে দেই, খেয়ে মরে যান?”)
একটা প্রোগ্রামিং ভাষা আপনাকে একটা ওয়েবসাইটে লগিন করা থেকে ধরে সাইটের সব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার সুবিধা দিয়ে থাকে।অনেকে নিশ্চয়ই অনলাইন চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন।আসলে সে সব বট প্রোগ্রামিং এর একটা জ্বলন্ত উদাহরণ।আপনি লজিকের সাথে কথা বলছেন।সেটা আপনাকে আপনার লজিক অনুযায়ী উত্তর দিচ্ছে।এইভাবে প্রোগ্রামিং দিয়ে আপনার যা মন চায়, তা করতে পারবেন।আরেকটা উদাহরণ হতে পারে অটো লাইক এবং কমেন্ট এর ব্যবহার।তো, গুরুত্ব আর না বুঝাই।চলে যাই মূল প্রসঙ্গে ...
হ্যাকিং করতে তো জানতে হবে আগে!তা ছাড়া আপনি প্রোগ্রাম বানাবেন কি অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে?যারা বলে “সকল প্রোগ্রামারই হ্যাকার,কিন্তু সকল হ্যাকার প্রোগ্রামার নয়” আবার “সকল হ্যাকারই প্রোগ্রামার, কিন্তু সকল প্রোগ্রামার হ্যাকার নয়”, এটা আসলে কথা হতে পারে না।কারন, প্রোগ্রামিং এর সবকিছু এলগরিদমে চলে।একজন প্রোগ্রামার হ্যাকারদের কাজের এলগরিদম জানে না।আবার হ্যাকার যে প্রোগ্রামারই হবে, বর্তমানে সেটার গ্যার্যান্টি কে দিবে?
ওসব যুক্তিতর্ক বাদ দিলাম।কাজে আসি।তো, কিভাবে একটা হ্যাকিং এর টুল বানানো হয়?আমি যখন এই টুল তৈরি করেছিলাম, সেটার কথাই বলি।টুল তৈরি করতে হলে আমাকে প্রথমে আমার কাজের একটা খসড়া তৈরি করে নিতে হয়।আমার এই টুলের কাজের ধাপগুলো ছোট করেঃ
১. যে ব্যবহার করবে, তার কিছু তথ্য নিয়ে নিয়েছি।
২. সে কি করতে চায়, সেটা জানতে চেয়েছি।আমি আইপি রেঞ্জ এর মধ্যে টার্গেট সাইট খোজার অথবা একটা সাইট টেস্ট করার ব্যবস্থা করেছিলাম।
৩. যখন কাজ দেওয়া হয় টুলকে, সেটা দেখে সাইটে এক্সপ্লোয়েট কাজ করে কিনা।এবার বলবেন জানি “ভাই, এক্সপ্লোয়েট কি?”, উত্তরঃ “আমার আগের নোটগুলাতে উত্তর আছে।”।
৪. যদি করে, তবে তা হ্যাকিং এর তথ্য রাখার সাইট “www.zone-h.org” তে সেভ করতে চেষ্টা করবে।যদি ১ বছরের মধ্যে সে সাইট কেউ হ্যাক না করে থাকে, তবে তা সফল হবে।
আসি সেই এক্সপ্লোয়েটটা নিয়ে কিছু কথায়।এটি সাধারন একটা এক্সপ্লোয়েট।এর দ্বারা কেউ একটা লিঙ্কে নিজের লিখা ইঞ্জেক্ট করে দিতে পারে এবং সেটা আবার পুনরায় কেউ রি ইঞ্জেক্ট না করার আগ পর্যন্ত সেভ থাকে যা ডিফেসিং বলে গণ্য হয়।কাজেই সেটা জোন-এইচে সেভ করে রাখা যায়।এই ছিল এই টুলের কাজ।
যদি বলেন, “সরাসরি হোমপেইজে আমার ডিফেস পেজ বসাই দেওয়ার কোন টুল নাই?”, উত্তরঃ “না ভাই।আমার সঠিক জানা নাই।”।
এখানে গেলে যে টুলের কথা বলছিলাম, তার সোর্স কোড দেখতে পাবেন।
তো, এরকম টুল বানাতে কি শিখতে হয়েছিল আমার?সবার আগেই বলব একটা প্রোগ্রামিং ভাষার অনেকাংশ শিখে ফেলতে হবে এবং এর ইন্টারনেট বেসড যেসব কাজ আছে(ওয়েবপেজ ফেচ করা,ডাটা পোষ্ট করা ইত্যাদি), তা শিখে নিতে হবে।নিজের এলগোরিদম তৈরি করে প্রোগ্রাম বানানোর দক্ষতা থাকতে হবে।আর মূল কথা, হ্যাকিং এর জ্ঞান তো থাকা লাগবে :P নাইলে কি প্রোগ্রাম বানাবেন?
হয়তো এতোটা পড়ার পর মনে হচ্ছে, নাহ।হ্যাকিং টুল তাইলে আছে।ভাই, থামেন।আছে।তার মানে এই না যে সবই “রিয়াল” জিনিস হবে।গুগলে “facebook account hacking tool” লিখে সার্চ দিন।দেখেন অনেক টুল আসবে।একটা যদি ইন্সটল করেন, আপনি নিজেই হ্যাক হয়ে যাবেন :v
কাজেই টুল ব্যবহার করার আগে সাবধান।আপনার অবগতির জন্য, একজন প্রোগ্রামার + হ্যাকার আপনার পিসি(কম্পিউটার) এর সম্পূর্ণ কন্ট্রোল নিয়ে নিতে পারে একটা মাত্র প্রোগ্রাম আপনাকে দিয়ে ইন্সটল করিয়ে।একে বলা হয় র্যাট(ইদুর না!রিমোট এডমিনিস্ট্রেশন টুল) বা ট্রোজান।অন্য নাম বলা যেতে পারে কি-লগার যা আপনার কীবোর্ডের লিখা ট্র্যাক করে হ্যাকারকে প্রেরন করতে পারে।আগে নিজে নিরাপদ থেকে অন্যের নিরাপত্তা ভাঙ্গার চিন্তা করবেন।অন্যথায় বাঁশ ভালভাবেই খেতে হবে আপনার :)
ভালমানের এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করবেন নিরাপদ থাকতে।তবে, হ্যাকাররাও কম যায় না।আপনার এন্টিভাইরাস বাইপাসও তারা করতে জানে।তাই, সাবধানে রাস্তা পার হবেন।ডানে বামে গাড়ী দেখে রাস্তা পার হোন, দেশ ও দশের উপকার করুন।প্রতিদিন ২ টা করে গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান।২ টি সন্তানের বেশি নয়, ১ টি হলে ভাল হয়।
ওহ!দুঃখিত, অনেক লম্বা নোট, তাই আপনাকে বোরড হবার থেকে ফিরিয়ে আনতে একটা জোক ছিল মাত্র।তো, আবার চলে আসি কাজের কথায়।
খালি কি প্রোগ্রামিং শিখলেই হ্যাকার হওয়া যায়?না।সেটা না।হ্যাকার হবার জন্য আলাদা জ্ঞান নিতে হয়।কেউ হ্যাকার হতে চায়, আগে কি জানতে হবে?নিচের কিছু বিষয় আগে একজনের থাকা লাগবেইঃ
১. ইনফরমেশন - টেকনোলোজিতে অফুরন্ত আগ্রহ।
২. ইলেকট্রনিক জিনিস এর ত্রুটি ঠিক করে ফেলার দক্ষতা, অন্তত আগ্রহ।
৩. ফেসবুক স্পেশালিষ্ট :P [আজকাল শুনি, “আমি আর কিছু না পারি, ফেসবুকের ৯৯% জানা আছে আমার”]
৪. মোবাইল স্পেশালিষ্ট :P [অনেকেই বলে, “আর কিছুতে আমি দুর্বল হলেও মোবাইলের ব্যাপারে আমাকে পেছনে ফেলতে পারবে না কেউ”]
৫. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট স্কিল।
৬. অনেক সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করার ধৈর্য এবং আগ্রহ।(সেটা ফেসবুকে না ভাই।ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক না।)
৭. ব্রেইন এবং জ্ঞান (আবাল কেউ হ্যাকিং জীবনেও শিখতে পারবে না।আবালের বৈশিষ্ট্যগুলো আর নাই বললাম)
হ্যা, এগুলা থাকলে আপনার যোগ্যতা আছে বলতে হবে।এবার আপনি হ্যাকিং এর কিছু বেসিক শিখতে হবে।এই বইটি পড়া শুরু করুন এবং ১০০% শেষ করুন।আরো পরিষ্কার ধারনার জন্য একই জিনিস গুগলেও খুজুন।সব শেষ হয়ে গেলে এবার হ্যাকিং এর সবথেকে সহজ সিস্টেম “এডমিন প্যানেল বাইপাস” চেষ্টা করুন এবং সফলতা না পাওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান।
“Patience is the key to success”
আপনি যখন দেখবেন পারছেন, সু-স্বাগতম :)
জেনে রাখুন, “যারা SQL injection এর জন্য সময় নষ্ট করেছে, তাদের থেকে অন্যরা বেশি সফল, যারা সেটা ফলো করেনি কারন হ্যাকিং এর শুরু সেটা না।দুনিয়ার কঠিন জিনিস সেটা যেখানে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক কম :) আসলেই তাই”।
আর হ্যা, সবাই হ্যাকার হতে পারে না এবং কেউ আপনাকে হ্যাকার বানাতেও বসে নেই।হ্যাকিং শিখতে কাউকে টাকা অফার করবেন না, কারন শিখতে পারবেন না।আর, ইউটিউবে দেখা একটা সিস্টেম ২ বার চেষ্টা করে না পেরে হাল ছেড়ে দিলে আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য “১ বোতল সমবেদনা” রইল।
আরেকটা ব্যাপার পরিষ্কার করি, “কালি লিনাক্স”। “ভাই, শুনেছি কালি লিনাক্স নামে একটা এপস আছে যেটা দিয়ে সব হ্যাক করা যায়।সত্যি নাকি?”।
না ভাই, কালি লিনাক্স হ্যাক করার এপস না।এটা একটা অপারেটিং সিস্টেম।ভাগ্য ভাল, এর ডেভেলপাররা “হ্যাক করার এপস” কথাটা শুনে নি।শুনলে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেত।এটা ব্যবহার না করেও হ্যাক করা যায়।সেটা সাধারন মোবাইল(ইন্টারনেট চলে এবং ভাল ব্রাউজার আছে এমন) দিয়েও হয়। “কি?সত্যি?যাহ!মজা করছেন!”।হ্যা ভাই, মজা করছি।এইবার মুড়ি খান :) টুল ছাড়াও হ্যাকিং করা যায়, সেটা ভুললে চলবে না ... :)
যাই হোক, অনেক কথা লিখলাম।আজ থাক।
Hacking is an art, but patience is the key to that art ...
No comments:
Post a Comment