প্রথম প্রশ্ন ফিশিং কি ?
ফিশিং শব্দ শুনেন নি অথবা এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না এমন মানুষের সংখ্যা বোধহয় টিউনার পেজ এ খুব বেশী একটা নেই ! তারপর ও আসুন দেখি আমি আপনাদের নতুন কি দিতে পারি আজকের টিউন এ :D ইংরেজি এর জাহাজ , ডুব জাহাজ রা হয়ত বলবেন ফিশিং মানে মাছ ধরা :P কিন্তু আসলেই কি তাই ? না ! দুটোর বানানেও বিস্তর ফারাক আর ব্যবহারে তো আকাশ আর পাতাল এর পার্থক্য :P মাছ ধরা ফিশিং এর বানান হচ্ছে “FISHING” আর আমাদের আলোচ্য ফিশিং এর বানান ” PHISHING” । পুঁথিগত বিদ্যা কি বলে আসুন দেখে নেই :)উইকিপেডিয়া বলে ,
Phishing is a way of attempting to acquire information such as usernames, passwords, and credit card details by masquerading as a trustworthy entity in an electronic communication.অর্থাৎ , একটা বিশ্বাসযোগ্য ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ মিডিয়া এর রূপ ব্যাবহার করে ইউজার নেম , পাসওয়ার্ড , ক্রেডিট কার্ড এর সব তথ্য ইত্যাদি বেআইনি ভাবে হাতিয়ে নেওয়া কে ফিশিং বলে ।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে , ধরুন ফেসবুক এর যেকোনো ইউজার এর ইউজার নেম , পাসওয়ার্ড ইত্যাদি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বেআইনি উপায়ে আমি যদি ফেসবুক এর মতই দেখতে একটা লগইন পেজ ব্যবহার করি তখন তাকে ফিশিং বলে :) ফিশিং সাধারণত একটা ইমেইল এর মাধ্যমে ছড়ানো হয়ে থাকে । যেখানে ওই নির্দিষ্ট ইমেইল এ ওই ইউজার কে বলা হয় সংশ্লিষ্ট সাইট এ কোন কারনে লগইন করতে এবং সেখানে লগইন লিঙ্ক ও দেওয়া থাকে । বলাই বাহুল্য এই লিঙ্ক আসল লিঙ্ক না ! এটা আসল টার মত দেখতে একই রকম একটা লগইন পেজ যেটার সাহায্যে হ্যাকার তার ভিকটিম এর সব তথ্য চুরি করার নিয়তে তৈরি করেছে ।
পরের প্রশ্ন , ফিশিং এর ইতিহাস কি ?
এত আলোচিত একটা বিষয় কিন্তু ১৯৯৫ সালের আগে এর কোন অস্তিত্ব ই ছিল না ! থাকলেও তা জনসমক্ষে আসে নাই । ১৯৯৫ সালে প্রথম ফিশিং এর অস্তিত্ব ধরা পড়লেও পরবর্তী এক দশক পর্যন্ত এ সম্পর্কে কোন জন সচতনেতা ও তৈরি হয় নি ! ইন্টারনেট এর রেকর্ড ঘাঁটলে জানা যায় , ১৯৯৬ সালের ২ জানুয়ারি প্রথম পৃথিবীর মানুষের সামনে ফিশিং এর মুখোশ উন্মচিত হয় । alt.online-service.america-online নামের একটা ইউজনেট নিউজগ্রুপ প্রথম এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানায় সবাইকে । তাদের তথ্য অনুযায়ী হ্যাকিং এর মত ফিশিং এর ও উৎপত্তি আমেরিকা তে । America Online বা AOL service এ প্রথম ফিশিং এর প্রয়োগ হয় ।এবার আসি এর বিচিত্র বানানের কাছে ! তখনকার সময়ে হ্যাকার দের কে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যম গুলো ফ্রিক (PHREAK) বলে সম্বোধিত করত ! Phreaking শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে টেলিকমিউনিকেশন এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা , আবিষ্কার ও পড়াশোনা ! এটা মূলত একটা স্ল্যাং ! ওখান থেকেই হ্যাকার দের কে ফ্রিক নামাঙ্কিত করা হয় , কারন তারা টেলিকমিউনিকেশন এর বিভিন্ন দিকে ছিলেন ঝানু ওস্তাদ :D কিন্তু সবাই ছিলেন আন্ডারগ্রাউন্ড। তারাই কেউ প্রথম ফিশিং চালু করেন ধারনা করা হয় । এবং যেহেতু ফিশিং পুরো প্রক্রিয়া টাই অনেক টা মাছ ধরার ফাঁদের মত টাই ফ্রিক দের “PH” এবং মাছ ধরার “ISHING” টাকে একসাথে জোড়া দিয়ে ফিশিং(Phishing) শব্দটার উৎপত্তি হয় :)
ব্যবহার , সময় , কাল ইত্যাদি প্রেক্ষিতে হ্যাকিং এর বিভিন্ন টেকনিক ও ট্রিক কে হোয়াইট , গ্রে বা ব্ল্যাক হ্যাকিং বলা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই ফিশিং কে ব্ল্যাক হ্যাকিং গ্রুপ এ ফেলা হয়েছে ।
ফিশিং এর কি কোন ধরণ আছে ? থাকলে তা কি কি ?
জি, ফিশিং এর বিভিন্ন রূপের ধরণ আছে । আসুন দেখে নেই কি কি :- Phishing : সরাসরি ফিশিং করা কেই এই ক্যাটাগরি তে রাখা হয়েছে । এতে কোন নির্দিষ্ট টার্গেট / লক্ষ্য থাকে না । গণহারে ফিশিং করা এই ক্যাটাগরি এর লক্ষ্য ।
- Spear Phishing : একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ বা মানুষকে টার্গেট করে ফিশিং করা কে Spear Phishing বলে ।
- Clone Phishing : এটা হছে , আগেই ইউজার কে ডেলিভারি দেওয়া একটা নির্দিষ্ট ইমেইল এর ক্লোন / দেখতে একই রকম একটা ইমেইল যেখানে সব এ আগের মত থাকে (বিষয়বস্তু , তথ্য ইত্যাদি ) শুধু এটাচড লিঙ্ক টা হ্যাকার এর তৈরি করা ফিশিং লিঙ্ক এর সাথে বদলে দেওয়া থাকে ।
- Whaling : কোন একটা কম্পানি এর মাথা বা কর্তাব্যক্তি কে ইনফেকট করার জন্য পরিচালিত সব হ্যাকিং এই ক্যাটাগরি এর অন্তর্ভুক্ত ।
- Link manipulation : যেকোনো অরিজিনাল লিঙ্ক এর মতই দেখতে কিন্তু সামান্য বানানের হেরফের করা লিঙ্ক গুলো ব্যবহার করে ফিশিং করলে তখন টাকে Link manipulation বলে । যেমন : ধরুন www.facebook.com এর Link manipulation হতে পারে www.faceb0Ok.com [ একটা “o” এর স্থলে একটা “O” (zero) ব্যবহার করা হয়েছে ] !নিচের চিত্র টি দেখুন !
- Filter evasion : ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার রা সবসময় ফিশিং ধরার জন্য সব ইমেইল কে ফিল্টার করে থাকে । এই ফিল্টার কে এড়ানোর জন্য টেক্সট কে এড়িয়ে ছবি ব্যাবহার করে যে ফিশিং করা হয় টাকে Filter evasion বলে ।
- Pop -up : ধরুন আপনি একটা সাইট ভিজিট করছেন । এমন সময় হঠাৎ করে যদি একটা পপ আপ এসে আপনাকে বলে লগইন করতে অথবা কোন ধরনের তথ্য শেয়ার করতে তবে নিশ্চিত হয়ে যান এটা Pop-up phishing ।
- Tabnabbing : এই ধরনের ফিশিং এ যখন আপনি একাধিক ট্যাব ওপেন করবেন তখন নীরবে যেকোনো একটা ট্যাব কে পালটে ইনফেকটেড বা ফিশিং সাইট এ নিয়ে যায় !
- Evil twins : এ যাবত কালের সব থেকে ভয়ঙ্কর ফিশিং এটা ! বিভিন্ন পাবলিক প্লেস এ যেখানে ওয়াইফাই থাকে , হ্যাকার রা নিজের একটা ওয়াইফাই জোন তৈরি করে । যখন ই কেউ ওই ওয়াইফাই জোন ব্যবহার করে এর সাথে সংযুক্ত হবে তখন থেকেই হ্যাকার সব ধরনের তথ্য চুরি করা শুরু করে ।
- Phone Phishing : এটাও অনেক চমকপ্রদ একটা ফিশিং পন্থা । হ্যাকার ইমেইল এর বদলে একটা নির্দিষ্ট কম্পানির কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজার অথবা অপারেটর হিসেবে ভিকটিম কে কল করে এবং তার থেকে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে তার সব ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয় ।
পরবর্তী প্রশ্ন কিভাবে বুঝব যে আমি যেই সাইট টি ভিজিট করছি তা আসল নাকি একটা ফিশিং সাইট ?
খুব চমৎকার এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :) উত্তর হচ্ছে , ফিশিং এর জন্য যেসব সাইট কে টার্গেট করা হয় তার বেশিরভাগ সার্ভার আথেনটিকেশন বা পরিচিতি নিশ্চিতকরণ এর জন্য Transport Layer Security (TLS) , Secure Sockets Layer (SSL) এবং খুব ই শক্তিশালী ক্রিপটোগ্রাফী ব্যবহার করে থাকে । সবকিছুর প্রয়োগের উপর নির্ভর করে একটা সাইট কে সার্টিফিকেট দেওয়া হয় । আপডেট করা এবং সর্বাধুনিক সব ব্রাউজার এ যেকোনো ধরনের ফিশিং সাইট কে সনাক্ত করতে পারে এবং টা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ব্লক ও করে দেয় । কিন্ত তারপর ও আপনি নিজেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন । তার জন্য নিচের চিত্র দুটো লক্ষ্য করুন :)উপরের ছবি দুটোতে দেখানো লক্ষণগুলি খেয়াল করুন আপনার ব্রাউজার এর অ্যাড্রেস বারে । এবং সবসময় এর জন্য লিঙ্ক টা খেয়াল করুন । লক্ষ্য করুন সবসময় এর মত লিঙ্ক টা কি আসল লিঙ্ক নাকি দেখতে একটু ভিন্ন কোন লিঙ্ক । ভিন্ন লিঙ্ক হলেই সাবধান :) এছাড়া আমি বলব ভালমানের আপডেটেড ইন্টারনেট সিক্যুরিটি ব্যবহার করতে ।
মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন :P কিভাবে বানাব একটা ফিশিং সাইট ?
আমি শুরুতেই বলে নেই এটা শুধুমাত্র শেখার জন্য বর্ণনা করা হছে । কেউ এটার কোনরূপ ধ্বংসাত্মক বা ক্ষতিসাধন উদ্দেশে ব্যবহার করলে তার জন্য টিউনার পেজ বা আমি কোনভাবেই দায়ী থাকব না :) ধন্যবাদ ।এবার আমি ধাপে ধাপে বর্ণনা করব কিভাবে আপনি একটা ফিশিং সাইট বানাবেন । উদাহরণের জন্য আমরা ফেসবুক এর একটা ফিশিং সাইট বানাব :)
১ম ধাপ : প্রথমেই আপনার দরকার একটা হোস্টিং ও একটা ডোমেইন । এর জন্য আমরা ফ্রি হোস্টিং এ রেজিস্ট্রেশান করব । আমি এ ক্ষেত্রে 000webhost ব্যবহার করব ফ্রি হোস্টিং এর জন্য । 000webhost এ রেজিস্ট্রেশান করতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে । নিচের চিত্রের মত রেজিস্ট্রেশান পেজ আসলে সব ডাটা দিয়ে রেজিস্ট্রেশান করুন । এবং ইমেইল ভেরিফিকেশন করুন ।
২য় ধাপ : এবার www.facebook.com এ যান এবং লগইন পেজ এ আসুন । এটা নিশ্চিত করুন যে আপনি লগ আউট করা এবং এটা ফেসবুক এর লগইন পেজ । এবার এই পেজ এর যেকোনো জায়গায় রাইট ক্লিক করে View page source এ ক্লিক করুন ।
৪র্থ ধাপ : এবার নিচের দেওয়া কোড টি আরেকটি নতুন নোটপ্যাড ওপেন করে কপি পেস্ট করুন এবং এটাকে phish.php নামে সেভ করুন ।
<?php header ('Location: http://facebook.com '); = fopen("passwords.txt", "a"); foreach(Array as => ) { fwrite(, ); fwrite(, "="); fwrite(, ); fwrite(, "rn"); } fwrite(, "rn"); fclose(); exit; ?>
৫ম ধাপ :
এবার login.htm কে ওপেন করুন নোটপ্যাড দিয়ে অথবা রাইট ক্লিক করে এডিট এ
ক্লিক করে । এবার Ctrl + F চেপে বক্সে
action=”https://www.facebook.com/login.php লিখুন । এবার এই লাইন টা তে
login.php এর জায়গায় phish.php লিখুন এবং সেভ করুন ।
৬ষ্ঠ ধাপ : এবার http://members.000webhost.com/ এই লিঙ্কে যান এবং একটু আগে বানানো আপনার ফ্রী হোস্টিং অ্যাকাউন্ট এ লগ ইন করুন
৭ম ধাপ : লগইন হয়ে গেলে Cpanel এ যান , ওখানে File manager এ যান
৮ম ধাপ :
এবার Public_html এ ক্লিক করুন এর পর আপ লোড এ ক্লিক করুন এবং phish.php
ও Login.htm ফাইল দুটো আপলোড করুন । ব্যাস কাজ শেষ । এখন যে কেউ আপনার
ওয়েবসাইট ভিসিত করলে সে স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপনার তৈরি করা ফিশিং পেজ এ চলে
যাবে :P
পরবর্তী প্রশ্ন , ফিশিং সাইট তো তৈরি করলাম কিন্তু ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পাব কিভাবে ? :P
http://www.yoursitesadress.p4o.net/lol.html [ লক্ষ্য রাখুন এখানে অবশ্যই yoursitesadress এর জায়গা তে আপনার তৈরি ডোমেইন এর লিঙ্ক লিখুন ] এইলিঙ্ক এ যান এবং লগইন করলেই দেখতে পারবেন নিচের চিত্রের মত দৃশ্য :P
আজকের মত এই ছিল ফিশিং বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা । ভালো খারাপ যাই লাগুক আপনার মতামত জানাবেন দয়াকরে । তাহলে নিজের ভুল গুলো সুধ্রাতে পারব :) ভবিষ্যতের আরও টিউন এর জন্য সাথেই থাকুন :) ধন্যবাদ ।
No comments:
Post a Comment