সময় নষ্ট না করে আসুন জেনে নেই কীলগিং কি ? এটা কিভাবে কাজ করে ? এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি কি ?
প্রথমেই জেনে নেই কীলগিং কি ?
Keyloggin বা Keystroke Logging হচ্ছে একটা হার্ডওয়্যার অথবা একটা সফটওয়্যার গত সিস্টেম মনিটর যেটা একটা কম্পিউটার এর প্রতি টি কী বোর্ড এর স্ট্রোক মনিটর / পর্যবেক্ষণ করে রেকর্ড করে ওই কম্পিউটার এর ইউজার এর অজ্ঞাতে । কীলগিং হার্ডওয়্যারগত অথবা সফটওয়্যারগত যেকোনো উপায়ে করা হয় । একটা অ্যান্টিভাইরাস এ কীলগার কে ট্রোজান এবং ব্যাকডোর হিসেবে সনাক্ত করে ।
১৯৮৩ সালের ১৭ নভেম্বর Perry Kivolowitz পৃথিবীর সর্বপ্রথম কীলগার ডিজাইন করেন । ২০১০ সালের সার্ভে অনুযায়ী সারা পৃথিবী তে কীলগিং করে এমন মানুষের সংখা ৫১৭,৮০০ ( approx. ) ।
কী লগিং এর লগ অর্থাৎ রেকর্ড করা কী স্ট্রোক গুলো সাধারণত C:\ ড্রাইভ এ একটা .TXT ফাইল হিসেবে সেভ হয় । আধুনিক কীলগার গুলোর এই সব লগ ইমেইল এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে । বাস্তবিক অর্থে কীলগার নিজে সিস্টেম এর জন্য কোন হুমকি না কিন্তু যেহেতু এটা আপনার কীবোর্ড এর সব স্ট্রোক ই রেকর্ড করবে সেহেতু বলাই যাই এটা আপনার পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য গোপন তথ্য ও রেকর্ড করবে যেটা পরে আপনার জন্য অবশ্যই হুমকি স্বরূপ দেখা দিবে ! সাইবার ক্রিমিনাল রা সাধারণত কীলগ ব্যবহার করে ব্যাংক কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড এর ১৬ ডিজিট অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও ৩ ডিজিট এর পিন নাম্বার টা সংগ্রহ করার জন্য । এছাড়াও আর হাজারো কাজে কীলগিং করা হয় । কারো ব্যাক্তিগত ইনফর্মেশন , কারো পাসওয়ার্ড , অথবা এমনি ই কীলগিং করা হয় । ফেব্রুয়ারী ২০০৫ থেকে কীলগিং কে দণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় আন্তর্জাতিক আদালত এ । এর জন্য সর্বোচ্চ $৯০,০০০ ফাইন অথবা ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার আইন আছে !
এপর্যন্ত কীলগিং করে যত সাইবার ক্রাইম করা হয়েছে তার মধ্যে সব থেকে বিখ্যাত Sumitomo Mitsui এর ঘটনা টা । এদের লন্ডন অফিস থেকে ২০০৫ সালের শুরুর দিকে সাইবার ক্রিমিনাল রা ছোট্ট একটা ১৩ কেবি এর কীলগের দিয়ে ৪২৩ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড চুরি করার চেষ্টা করে । একেবারে শেষ মুহূর্তের একটা ছোট্ট ভুলের কারনে ওই কীলগার এর ডিজাইনার Yeron Bolondi পুলিশ এর কাছে ধরা খেয়ে যান !
এছাড়াও অনেক বড় বড় ব্যাংক ডাকাতি তে ও কীলগিং করে অনেক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভূরি ভূরি উদাহরন আছে !
আসলেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কীলগিং খুব ই বড় একটা হুমকি । তাই আমি সবসময়ই বলব দয়া করে নিজেদের কে কীলগিং থেকে বাঁচিয়ে রাখুন ।
আসুন দেখে নেই কীলগিং সম্পরকিত কতগুলো চিত্র :)
এটা একটা সফটওয়্যার নির্ভর কীলগার

এটা একটা হার্ডওয়্যার নির্ভর কীলগার ।

এটা একটা লগ রিপোর্ট
এবার আসুন জেনে নেই কীলগার কিভাবে কাজ করে
সফটওয়্যার নির্ভর কীলগার :Hypervisor-based : এই পদ্ধতি তে কীলগার একটা Malware Hypervisor হিসেবে অপারেটিং সিস্টেম এর ভেতর লুকিয়ে কীলগিং করে । উদাহরন : Blue Pill
API-based: Application programming interface বা সংক্ষেপে API নির্ভর কীলগার গুলো লেখা বা ডিজাইন করা সব থেকে সহজ । এগুলো কীবোর্ড এর ইন্টারফেস হিসেবে সিস্টেম এর কাছে পরিচিত হয় । সিস্টেম এর মাধ্যমেই এরা সব লগ পায় । কিন্তু খুব দ্রুত টাইপ করলে [ 40+ WPM ] এরা অনেক স্ট্রোক মিস করে ।
Kernel-based: এগুলো হচ্ছে ধুরন্ধর কীলগার । কোর হিসেবে এরা অপারেট করে । এগুলো মোটামুটি FUD / Fully Un-Detectable । এগুলো লেখা ও যেমন কঠিন তেমন এগুলো কে সনাক্ত করা ও কঠিন । কীবোর্ড এর হার্ডওয়্যার ড্রাইভার হিসেবে সিস্টেম এর সাথে সঞ্জুক্ত হয়ে কীলগ সংগ্রহ করে ।
Form grabbing based: ওয়েব ব্রাউজার এ যখন একটা তথ্য ইনপুট করা হয় তখন টা HTTPS / HTTP সংযোগ পাওয়ার আগেই এগুলো কে লগ করে ফেলে এ ধরনের কীলগার।
Packet analyzers: HTTP POST সংক্রান্ত যেকোনো ডাটা কে লগ করে এধরনের লগার ।
হার্ডওয়্যার নির্ভর কীলগার :
Firmware-based : BIOS থেকে কীবোর্ড এর Firmware হিসেবে কাজ করে এরা কীবোর্ড এর সব ইনপুট লগ করে
Keyboard hardware : পিসি ও কীবোর্ড এর যেকোনো জায়গা তে সংযুক্ত হয়ে [ উপরের ছবির মত ] কীবোর্ড এর যেকোনো ইনপুট লগ করে এরা ।
Wireless keyboard sniffers : wireless কীবোর্ড থেকে এর রিসিভার এ পাঠানো যেকোনো ডাটা লগ করে এরা ।
Keyboard overlays : এটা সাধারণত দেখা যায় ATM মেশিন গুলতে । হ্যাকার রা খুব পাতলা এক ধরনের আবরণী বিছিয়ে দেয় ATM মেশিন এর কী-প্যাড এর উপর এবং সেখান থেকে PIN নাম্বার সংগ্রহ করে ।
Acoustic keyloggers : ১৯৯৬ সালের মাঝামাঝি CIA এধরনের কীলগার বানায় । কীবোর্ড এর প্রতি টা কী এর স্ট্রোক একটা ভিন্ন মাত্রার Acoustic Notation দেয় । দূর থেকে সে গুলোর অডিও লগ নিয়ে পরে তা বিশ্লেষণ করে আসল লগ বের করা হয় ।
Electromagnetic emissions : ২০০৯ সালে সুইস বিজ্ঞানীরা এ ধরনের কীলগার আবিস্কার করেন । ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট দূর থেকে এটা কাজ করে !
কীলগার এর সাথে সম্পর্কিত আরও কিছু নাম জেনে নিন
Clipboard logging : Clipboard এ কপি করা যেকোনো কিছু লগ করা
Screen logging : Screenshots এর মাধ্যমে কীলগ করা
কিভাবে কীলগার গুলো তার লগ করা ডাটা পাঠায় ?
১।FTP সার্ভার এর মাধ্যমে ২।পূর্বনির্ধারিত কোন ইমেইল আইডি তে মেইল করে
৩। ওয়্যারলেস ট্রান্সমিশন এর মাধ্যমে
৪।রিমোট আক্সেস এর মাধ্যমে ।
কিভাবে কীলগিং প্রোগ্রাম গুলো দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন ?
১। কোন ইমেইল এর সাথে এটাচ করা কোন ফাইল ওপেন করে ২। P2P নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে
৩।আগে থেকে ডিজাইন করা একটা ওয়েব পেজ যদি সুরক্ষিত ব্রাউজার দিয়ে ব্রাউস না করা হয় তখন
৪।অন্য কোন প্রগ্রামের এর মাধ্যমে
৫। ইউএসবি কোন ধরনের সংযোগের এর মাধ্যমে
৬। সিডি / ডিভিডি থেকে
কিভাবে বুঝবেন আপনি আক্রান্ত হয়েছেন কীলগিং এর ?
১। ভালো অ্যান্টিভাইরাস এর মাধ্যমে ২। নিচের ছবি দুইটা খেয়াল করুন । একটা স্টার্ট আপ এর প্রোগ্রাম এর লিস্ট আর অন্য টা টাস্ক ম্যানেজার এর । খুজে বের করুন কোন প্রোগ্রাম টা আপনার পরিচিত না এবং যেটা আপনি জীবনেও ব্যবহার করেন নি ! এগুলো দেখতে পেলেই বুঝবেন আপনি আক্রান্ত । দেরী না করে সাথে সাথে প্রতিকার শুরু করে দিন


কিভাবে বাঁচবেন কীলগার থেকে ?
১। ভালো অ্যান্টিভাইরাস – এর কোন বিকল্প নেই ২। Anti-spyware – এটা ও অ্যান্টিভাইরাস এর মতই কাজ করে
৩।Network monitors – যখন কোন প্রোগ্রাম তার নিজে থেকে ইন্টারনেট এ কানেক্ট হতে লায় তখন ইউজার কে সতরক করে Network monitors
৪।Automatic form filler programs – এটা অনেকটা ব্রাউজার এর অটোমেটিক অপশন remember my password এর মতই
৫। One-time passwords (OTP) – একধরনের হার্ডওয়্যার যা কোন কী স্ট্রোক ছাড়াই পাসওয়ার্ড এর এন্ট্রি দেয় নির্দিষ্ট ফর্ম এ
৬। On-screen keyboards : উইন্ডোজ এর সবথেকে কাজের জিনিস এটা । যত বড় ঘাঘু কীলগার ই হোক না কেন এটার কী স্ট্রোক কেউ লগ করতে পারবে না :D
৭।Keystroke interference software – এই ধরনের সফটওয়্যার প্রতিটা কী লগ কে encrypt করে কীলগার গুলো কে ধকা দেয় । খুব ই কাজের জিনিস
আপাতত এই ছিল কীলগার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা । আশা করি আপনাদের ভালো লেগে থাকবে টিউন টি । কাজে লেগে থাকবে । আপনাদের কোন ধরনের কাজেই আসতে পারলে আমার লেখা সার্থক হবে । সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ সবাইকে । সঙ্গেই থাকুন আরও ধারাবাহিক ব্যাসিক হাকিং গ্রামার নিয়ে আলোচনার জন্য :) ধন্যবাদ ।
No comments:
Post a Comment